বিজ্ঞপ্তি:
দৈনিক শাহনামার অনলাইন ভার্সনে আপনাকে স্বাগতম। জাতীয়, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন সহ সকল সংবাদের সর্বশেষ আপডেট জানতে ভিজিট করুন www.shahnamabd.com
সংবাদ শিরোনাম :
লালমোহনে ইউপি চেয়ারম্যান মুরাদের বিরুদ্ধে জুতা-ঝাড়ু মিছিল শিক্ষা জাতীয়করনের দাবীতে আগামীকাল  শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের মানববন্ধন শেখ হাসিনা সারা দেশের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও মনোযোগের ব্যবস্থা করেন – এমপি শাওন  ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূতের কাছে ছারছীনা দরবার শরীফের পক্ষে আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আলহাজ্ব আবুল কালামের ইন্তেকাল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষা শুরু বরিশালে কারাবন্দিদের নতুন জীবনের সূচনায় কারাফটকে ভ্যান ও সেলাই মেশিন বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার আমতলীতে নির্বাচন পরবর্তী সংহিসতায় আহত ৮ তালতলীতে ছেলে হত্যায় ঘাতক বাবার বিরুদ্ধে মামলা বরিশালে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ভ্যানচালকের পরিবারকে সহায়তা প্রদান
জি৭ সম্মেলন: কয়লা-বিদ্যুৎকেন্দ্রে জাপানি বিনিয়োগ বন্ধের দাবি তরুণ জলবায়ু কর্মীদের

জি৭ সম্মেলন: কয়লা-বিদ্যুৎকেন্দ্রে জাপানি বিনিয়োগ বন্ধের দাবি তরুণ জলবায়ু কর্মীদের

পৃথিবীর সবথেকে সাতটি ধনী দেশের ফোরাম জি-৭ (গ্রুপ অব সেভেন)-এর শীর্ষ সম্মেলন ঘিরে বাংলাদেশে মাতারবাড়ি কয়লা-বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে সব ধরনের জাপানি বিনিয়োগ বন্ধ করতে আহবান জানিয়েছে তরুণ জলবায়ু কর্মীরা। 

আজ বৃহস্পতিবার (১০ জুন) কক্সবাজারের বাঁকখালী মোহনায় বাংলাদেশের বৈদেশিক দেনা বিষয়ক কর্মজোট (বিডাব্লিউজিইডি) ও ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের যৌথ উদ্যোগে নৌকাবন্ধনের মাধ্যমে তরুণ জলবায়ু কর্মীগণ এ দাবি করেন। তরুণদের দাবির মধ্যে রয়েছে: অবিলম্বে মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট কয়লা-বিদ্যুৎকেন্দ্র (১ম পর্যায়) নির্মাণ স্থগিত করে যে পর্যন্ত অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে তার উপর তরল হাইড্রোজেনের মতো কম দূষণকারী জ্বালানির বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে, মাতারবাড়ি কয়লা-বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প এখনই বাতিল করে সৌর বা বায়ু-বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে, জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে সব ধরনের জাপানি বিনিয়োগ বন্ধ করতে হবে, মাতারবাড়ির স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে, এবং ঐতিহাসিক দূষণের দায় স্বীকার করে সব ধরনের ঋণ মওকুফ করতে হবে।

নৌকা-বন্ধনে বক্তারা বলেন, বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে একমত যে, ২১০০ সাল নাগাদ মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি থামাতে হলে ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমনের মাত্রা শূন্যতে নামিয়ে আনতে হবে। গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমনের সবথেকে বড় কারণ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার। এই সময়সীমার মধ্যে শূন্য নির্গমন নিশ্চিত করার জন্য আমাদের হাতে আর সময় নেই। তাই, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA)-এর সুপারিশ অনুসারে এখনই জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের কক্সবাজার জেলার সমন্বয়কারী জিমরান মো: সায়েক বলেন, গত ২১ মে ২০২১ তারিখে পৃথিবীর সবথেকে সাতটি ধনী দেশের জোট জি-৭-এর মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা আর কয়লাখাতে বিনিয়োগ করবে না। এ সাতটি দেশ হলো : কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। জি-৭ এর সদস্য রাষ্ট্র “জাপান” সম্মিলিতভাবে নেয়া এ সিদ্ধান্ত অমান্য করে কয়লা-বিদ্যুত খাতে বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। জাপানসহ জি-৭ভূক্ত দেশগুলো আমাদের মতো দরিদ্র দেশকে ঋণ দিয়ে আমাদের কাঁধে ঋণের বোঝা চাপিয়েছে। এখন ঋণ শোধ করতে গিয়ে আমাদের মত দেশগুলোর মাথাপিছু ঋণ দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার টাকারও উপরে।

তাঁরা আরো বলেন, জলবায়ু-দুর্যোগের কারণে পৃথিবীর সবথেকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সিডর, আইলা, মহাসেন, বিজলি, আম্পান ও ইয়াসসহ ছোটবড় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, অতিবৃষ্টিতে আমরা প্রতি বছর আক্রান্ত হই। হাজার হাজার ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে, লাখ লাখ মানুষ তাদের জীবন-জীবিকা হারায়। এরই মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার কয়লা-বিদ্যুৎকেন্দ্র আমাদের পরিবেশ ধ্বংস করবে, বাতাসে আরো গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন করবে, মার্কারি ও সালফার দূষণের কারণে ফসল নষ্ট হবে, মানুষের স্বাস্থ্যহানি ঘটবে এবং দেশ দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জালে আটকে যাবে।

আগামীকাল ১১ই জুন থেকে আগামী ১৪ই জুন যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবছরের জি-৭ সম্মেলন। সম্মেলনে অংশ নেবেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও ড্রাগি, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, জাপান পৃথিবীর সবথেকে ধনী দেশগুলোর অন্যতম। ১৯৯২ সালের জলবায়ু-সনদ অনুসারে জাপান শুধু নিজের দেশে নয় বরং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশেরও গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে নীতিগতভাবে বাধ্য। কিন্তু জাপান সরকার ও সরকারের প্রতিষ্ঠান জাইকা কয়লা-বিদ্যুত খাতে বিনিয়োগ করে আমাদেরকে যেমন বিপদে ফেলছে তেমনি মানবজাতির সমান ক্ষতি করছে। এতে লাভ হচ্ছে জাইকার, কিন্তু ক্ষতি হচ্ছে বাংলাদেশের ও পৃথিবীর। বক্তারা মাতারবাড়ির মতো পরিবেশগত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কয়লা-বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন না করে জাপানের কাছে সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পে সহায়তা করার দাবি জানান যাতে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রবর্তন করা যায়।

Please Share This Post in Your Social Media




All rights reserved by Daily Shahnama
কারিগরি সহায়তা: Next Tech