বিজ্ঞপ্তি:
দৈনিক শাহনামার অনলাইন ভার্সনে আপনাকে স্বাগতম। জাতীয়, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন সহ সকল সংবাদের সর্বশেষ আপডেট জানতে ভিজিট করুন www.shahnamabd.com
সংবাদ শিরোনাম :
বরিশাল মুক্ত দিবসে জেলা আওয়ামী লীগের পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ দন্ডপ্রাপ্তকে বিদেশ নেয়ার কথা বলা দ্বৈত নীতি: প্রধানমন্ত্রী ফোর্বসের প্রভাবশালী নারীর তালিকায় শেখ হাসিনা বরিশালে শের-ই-বাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নব-নির্মিত শহীদ মিনার এর উদ্বোধন ব‌রিশাল বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ে শীতকা‌লিন ছু‌টি বা‌তিল বরিশাল মুক্ত দিবসে ১শ’ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা ৮ ডিসেম্বর বরিশাল মুক্ত দিবস উপলক্ষে ওয়াপদা কলোনী বধ্যভূমি স্মৃতি ৭১ এ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের আয়োজন চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত  বরিশালে শিক্ষার্থীদের জেলা প্রশাসক দপ্তর ঘেড়াও সহ আন্দোলন অব্যাহত দু’পক্ষের দ্বন্ধের জেরে আমতলী বিআরটিসি বাস কাউন্টার বন্ধ, যাত্রী ভোগান্তি চরমে

কুমিল্লার ঘটনা দুঃখজনক, অপরাধীর বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনা দুঃখজনক, অপরাধীর বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী

শারদীয় দুর্গাপূজা চলাকালে কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননার ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যা ঘটেছে তা খুবই দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কুমিল্লায় ঘটনায় অপরাধী যেই হোক তার বিচার করা হবে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার কুমিল্লা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন তিনি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে সব ধর্মের মানুষ সম্মানের সঙ্গে যুগের পর যুগ বসবাস করছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষ রক্ত দিয়েছে। কুমিল্লার যে ঘটনাটা ঘটে গেছে, এটা সত্যি খুব দুঃখজনক। মানবধর্মকে সম্মান করা ইসলাম আমাদের শেখায়। নিজের ধর্ম পালনের অধিকার যেমন সবার আছে। অন্যের ধর্মকে কেউ হেয় করতে পারে না। নিজের ধর্মকে সম্মান করার সঙ্গে সঙ্গে অন্যের ধর্মকেও সম্মান করতে হয়।

সরকারপ্রধান বলেন, অন্যের ধর্মকে যদি হেয় করা হয়, তাহলে নিজের ধর্মকেই অসম্মান করা হয়। কুমিল্লার ঘটনাটা যদি বিশ্লেষণ করি সেটাই দেখতে পায়। অন্যের ধর্মকে অসম্মান করতে গিয়ে আমাদের পবিত্র কোরআনকে অবমাননা করা হয়েছে। এটাই হচ্ছে সব চেয়ে দুঃখজনক। যার যার নিজের ধর্মের সম্মান নিজেকেই রক্ষা করতে হবে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আইন কেউ হাতে তুলে নিবেন না। কেউ যদি অপরাধ করে, সেই যেই হউক অপরাধের বিচার হবে। আমাদের সরকার সেই বিচার করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘ধর্ম নিয়ে কেউ বাড়াবাড়ি করবে না’। আমাদের সকলকেই সেই কথাটা মেনে চলতে হবে। সেই কথাটা স্মরণ করতে হবে। জানতে হবে। তাহলেই ইসলামের সঠিক শিক্ষাটা আমরা পাবো। প্রতিটি ধর্মেই শান্তির কথা বলে। সকলেই শান্তি চাই।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, বাংলাদেশে আমরা একটা অসাম্প্রদায়িক সমাজে বসবাস করি। সেখানে সকল ধর্মের সঙ্গে আমাদের সম্প্রীতি থাকবে। সম্প্রীতি নিয়েই আমাদের চলতে হবে। যুগ যুগ ধরেই সকল ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছি।

মুক্তিযুদ্ধে সকল ধর্মের মানুষ জীবন দিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন। সেখানে কিন্তু কোন ধর্ম দেখে নয়। যারা রক্ত দিয়েছেন, সেটা সকল ধর্মের। সকল ধর্মের রক্ত একাকার হয়ে মিশে গেছে। এটা সবাইকে মনে রাখতে হবে। বাংলাদেশ সকল ধর্মের, বর্ণের, সব শ্রেণিপেশার মানুষের। সকলেই মর্যাদা ও সম্মান নিয়ে চলবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, সবসময় এরকম একটা ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। অথচ বাংলাদেশটা এগিয়ে যাচ্ছে।

সরকারপ্রধান বলেন, কুমিল্লার এই ঘটনার পরে পরীগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় এই ধরণের ঘটনা ঘটেছে। সঙ্গে সঙ্গে যাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়েছে, তাবু করে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রথমে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা। তারপরে রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা। তাদের কাপড় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

‘যাদের এই ধরণের ক্ষতি হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকেই ঘরবাড়ি তৈরি করে দেবো। ইতিমধ্যে সেই ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। যেখানেই মানুষের উপর এই ধরণের নির্যাতন হয়, আওয়ামী লীগ পাশে থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও পাশে থাকে।’-বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধুকন্যা আরও বলেন, সবসময় এরকম একটা ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। অথচ বাংলাদেশটা এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা মুজিববর্ষ উদযাপন করছি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। এই সময়েই আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। সেই মর্যাদাটা রক্ষা করে আমাদের উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের উন্নয়ন যখন হয়, তখন দেশের একটা শ্রেণি আছে তারা এটা মানতে পারে না। তাদের কাছে এটা পছন্দই না। বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে সম্মান নিয়ে চলবে। এটা বোধহয় এদের পছন্দ হয় না। আর বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত এদেরতো হবেই না।

শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়ার অন্তরে সবসময়ই ছিলো পেয়ারে পাকিস্তান। সেতো সবসময় পেয়ারে পাকিস্তান নিয়েই থাকতো। এটা হলো বাস্তব কথা। বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ। কাজেই ভবিষ্যতে কেউ ক্ষতি আর করতে পারবে না। আমরা কখনোই আর কারও অধীনস্ত হবো না। স্বাধীন জাতি হিসাবে সারাবিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবো। সেই কথাটা সবাইকে মনে রাখতে হবে।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে চলার নির্দেশনা দিয়ে দলটির সভাপতি বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠা হয়েছে মানুষের কল্যাণের জন্য। জাতির পিতা নিজের জীবনটাকে বিলিয়ে দিয়েছেন মানুষের জন্য। সেই আদর্শের নেতাকর্মীদের সেটাই মাথায় থাকতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। প্রত্যেকটা এলাকায় আমাদের নেতাকর্মীদের নজরদারি বাড়াতে হবে। শান্তি সম্মেলন, মিছিল ও সভা করতে হবে। সম্প্রীতির ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে কোনরকমের সংঘাত দেখা না দেয়। কারণ এই মাটিতে প্রত্যেকটা ধর্মের মানুষ যাতে ভালোভাবে বাঁচতে পারে।

করোনাভাইরাসের প্রায় ছয় কোটি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, আমরা আরও টিকা দিচ্ছি। যত টিকা লাগে আমরা সব দেবো। এমনকি আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থীরাও পাবে। তার জন্য আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। ডব্লিউএইচও’র সঙ্গে আলোচনা করছি যে, কেউ বাদ যাবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, সকলের স্বাস্থ্য সুরক্ষা যাতে থাকে। সেই ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করার সুযোগ করে দেওয়া। দেড়টা বছর নষ্ট হয়ে গেছে। আর যেন কোন নষ্ট না হয়। টিকা আমরা দিচ্ছি ঠিকই। কিন্তু তারপরও স্বাস্থ্য সুরক্ষটা সকলকে মেনে চলতে হবে। কারণ নিজের সুরক্ষটা নিজেকেই মানতে হবে। সেই বিষয়টার দিকেও সকলকে সচেতন থাকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পরে জাতির পিতা যখন প্রত্যাবর্তন করলেন। সেখানে ভাষণেও তিনি সেই কথা বলেছিলেন।

তৃণমূল পর্যন্ত সরকার উন্নয়ন কাজ করছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন,‘আজকে আমরা সরকারের আছি দীর্ঘ সময়। ২০০৯ থেকে ২০২১ দীর্ঘ সময়। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। উন্নয়নের ছোঁয়াটা শুধু শহর ভিত্তিক না, গ্রামভিত্তিক। গ্রামের প্রতিটি মানুষের যাতে উন্নতি হয় সেইদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা একেবারে তৃণমূল পর্যন্ত উন্নয়ন করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কুমিল্লার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কি করবো? অর্থমন্ত্রীও কুমিল্লার। কাজেই এখানেতো অর্থ যাচ্ছেই প্রচুর। সেটাতো বাস্তব।

শেখ হাসিনা বলেন, ৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরে যারা দেশের ক্ষমতায় এসেছিল তারা মানুষের জন্য কিছু করেনি, মানুষকে দেয়নি। তারা নিজেদের আখের গুছিয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ গণমানুষের সংগঠন। আওয়ামী লীগ এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করবেই। দেশের মানুষকে উন্নত জীবন দিবে, মৌলিক চাহিদা পূরণ করবে। যেটা জাতির পিতা চেয়েছিলেন।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে সেনাবাহিনীসহ পুরো সশস্ত্র বাহিনীর উন্নতি করা হয়েছে। জাতির পিতার প্রতিরক্ষা নীতিমালা অনুসারেই কিন্তু আমরা ফোর্সেস গোল-২০৩০; করে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী, যারা আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে। তাদেরও সার্বিক উন্নয়ন করে যাচ্ছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী-বিজিবিসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষের জন্য আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media




All rights reserved by Daily Shahnama
কারিগরি সহায়তা: Next Tech