বিজ্ঞপ্তি:
দৈনিক শাহনামার অনলাইন ভার্সনে আপনাকে স্বাগতম। জাতীয়, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন সহ সকল সংবাদের সর্বশেষ আপডেট জানতে ভিজিট করুন www.shahnamabd.com

কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কোরআন অবমাননা : মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে

কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কোরআন অবমাননা : মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে

ডেস্ক রিপোর্ট :

গত বছর কুমিল্লায় দুর্গাপূজার সময় অস্থায়ী একটি পূজামণ্ডপে কোরআন অবমাননার অভিযোগে দায়ের করা ১২টি মামলার বেশির ভাগ তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত বছর ১৩ অক্টোবর ইকবাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি মণ্ডপে একটি মূর্তির কোলে কুরআন রেখেছিলেন। অন্য অভিযুক্ত ইকরাম ‘পবিত্র ধর্মগ্রন্থের অবমাননা’র কথা জানিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল করেছিলেন। সে সময় ঘটনাটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

এ ঘটনায় কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও রংপুরসহ কয়েকটি জেলায় মন্দিরে সহিংসতা ও হামলা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত আট জন নিহত ও বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন মুসলিম, তারা পুলিশের গুলিতে মারা যান।

সহিংসতার ঘটনায় কুমিল্লায় ১২টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার তদন্ত করছে সিআইডি, পিবিআই ও থানা পুলিশ।

কুমিল্লার সিআইডি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাছে তদন্তে থাকা ছয়টি মামলার মধ্যে পাঁচটি মামলারই অভিযোগপত্র দাখিল করেছি। অন্য মামলা ধারা পরিবর্তন করার কারণে প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য বিলম্ব হচ্ছে।’

জাকির বলেন, ‘ধর্মঅবমাননা ও সন্ত্রাস বিরোধী ধারায় যে মামলাটি কোতোয়ালি থানার মামলা নং ৫২ (ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮), এটিতে আকেটি ধারা সংযুক্ত করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এ ছাড়া সন্ত্রাস দমন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও বিস্ফোরক আইনের মামলাগুলোর অভিযোপত্র দেওয়া হয়েছে।’

তদন্তাধীন চারটি মামলার মধ্যে একটি মামলায় একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পিবিআই। বাকি তিনটি মামলার তদন্তও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই কর্মকর্তারা।

জেলা পুলিশ সুপার মো. আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, কুমিল্লায় মন্দিরের ঘটনায় দায়ের করা দুটি বড় মামলা জেলা পুলিশ তদন্ত করেছে, তবে তারা অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

মান্নান বলেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা দুটি মামলা এবং সিআরপিসির অধীনে নাশকতা মামলা প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।’

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, গত বছর নানুয়া দীঘিরপাড় এলাকায় কোরআন অবমাননার ঘটনা ঘটেছিল সেখানে এ বছরও দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ‘গত বছরের সহিংসতার কথা বিবেচনা করে এ বছর দুর্গাপূজা উদযাপনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’

কুমিল্লা জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল পাল জানান, এ বছর জেলায় ৭৯৪টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় এবারের পূজা সুষ্ঠুভাবে উদযাপিত হবে বলে আমরা আশা করছি।’

Please Share This Post in Your Social Media




All rights reserved by Daily Shahnama
কারিগরি সহায়তা: Next Tech