বিজ্ঞপ্তি:
দৈনিক শাহনামার অনলাইন ভার্সনে আপনাকে স্বাগতম। জাতীয়, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন সহ সকল সংবাদের সর্বশেষ আপডেট জানতে ভিজিট করুন www.shahnamabd.com

কলাপাড়ায় বুলবুলের ক্ষতি পোষাতে সবজি চাষে ব্যস্ত চাষীরা

কলাপাড়ায় বুলবুলের ক্ষতি পোষাতে সবজি চাষে ব্যস্ত চাষীরা

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নিলগঞ্জ ইউনিয়নে দশ শতক জমির নষ্ট হওয়া সবজির ক্ষেতে ফের ফুলকপির চারা রোপনের কাজ করছিলেন চাষী হাফিজুর। জানালেন, কুমিরমারা গ্রামের পাঁচ শতক জমি একসনা ভিত্তিতে এবং আমিরাবাদ গ্রামে ৪২ শতক জমিতে সবজির আবাদ করেছিলেন। এখন সব শেষ। বীজ, চাষাবাদ নিয়ে অন্তত ১৫ হাজার টাকা খরচ করেছিলেন। এখন বেগুন, লাউ, মুলা ও ধনে পাতা বাজারে বিক্রি করতে পারতেন। ঘুর্ণিঝড় বুলবুলে সব শেষ। ফের কোমর বেধে ক্ষেত তৈরির কাজ করছেন এ চাষী।

কামলা, বীজ নিয়ে ফের এ চাষীর কুড়ি হাজার টাকা ধার-দেনা করতে হয়েছে। মুলা লালশাক লাগানো তিন শতক জমি ফের তৈরি করছিলেন আব্দুল বারেক হাওলাদার। আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার নষ্ট হওয়া দুই বিঘা জমিতে আবার সবজি আবাদের জন্য মই দিচ্ছিলেন।

জানালেন লাল শাক, পালংশাক, ফুলকপি সব নষ্ট হয়ে গেছে। রোদের মধ্যে একজনে মইতে বসে অপর দুই জনে টানছিলেন। ক্ষতির যেন সীমা নেই বলে জানালেন এ চাষী। নষ্ট হওয়া চার বিঘার দুই বিঘা জমির সবজি ক্ষেত ফের কোদাল দিয়ে কুপিয়ে তৈরি করছিলেন নুর আলম হাওলাদার। জানালেন, এক দফা অন্তত ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন ফের ক্ষেত তৈরি করে চারা ও বীজ রোপন করবেন। তিনজন কামলা নিয়ে তিন বিঘা জমিতে ফের সবজির আবাদে ব্যস্ত শাহজাহান মৃধা। জানালেন ধানের চেয়ে শাক-সবজিতে বেশি লাভ। তাই ১২ মাস সবজির আবাদ করেন। নষ্ট হওয়া ক্ষেত পুনরায় তৈরি করছেন ফোরকান হোসেন। জানালেন ফুলকপি পাতাকপি সব নষ্ট হয়ে গেছে।

এভাবে কুমিরমারা গ্রামের অন্তত ৭৫ জন সবজি চাষী ফের লোকজন নিয়ে মাঠে কোমর বেধে কাজ করছেন। শীতকালীন সবজি ফলানোর জন্য যেন প্রতিযোগিতা চলছে এসব চাষীদের। নীলগঞ্জের কুমিরমারা, গামইরতলা, এলেমপুর, আমিরাবাদ, পাখিমারাসহ অধিকাংশ গ্রামগুলোতে একই দৃশ্য দেখা গেল। এসব চাষীদের অভিযোগ কৃষিবিভাগ তাঁদের তেমন কোন খোঁজ-খবর নেয়নি। এ ইউনিয়নসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের সহ¯্রধিক সবজি চাষী কোটি টাকার শাক-সবজির ক্ষেত ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে নষ্ট হওয়ায় আবার ক্ষেত তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এখন পর্যন্ত এসব চাষীরা কেউ বিশেষ প্রণোদনা পায়নি। জোটেনি কোন ধরনের সহায়তা। তাঁরা নিজেদের প্রয়োজনে, নিজ উদ্যোগে ফের সবজির ক্ষেত তৈরির জন্য কোমর বেধে মাঠে কাজ করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মান্নান জানান, ক্ষয়-ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য দেয়া হয়েছে। বিশেষ প্রণোদনার জন্য সরকারী উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। যা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে দেয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media




All rights reserved by Daily Shahnama
কারিগরি সহায়তা: Next Tech