বিজ্ঞপ্তি:
Welcome To Our Website...
পিতৃত্বের পরিচয় পেয়েছে বরিশালে সেই পাগলীর সন্তান

পিতৃত্বের পরিচয় পেয়েছে বরিশালে সেই পাগলীর সন্তান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রতিটি মুসলিম পরিবারে পুত্র সন্তান জম্ম নিলে তার পিতাই আজানের ধ্বন্নি দেয় ওই পুত্রের সন্নিকটে। কিন্তু পাগলীর সেই পুত্র সন্তানের কাছে গিয়ে আজান দেয় নি কেউ।

ফুটফুটে নিষ্পাপ শিশুটি তার পিতার সেই আজানের ধ্বন্নি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সব মানুষের আশা থাকে তার সন্তান জম্ম নিবে আলো আধারের মধ্যে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ঘটেছিলো সেই পাগলী মাহফুজার কপালে।

দরিদ্র পরিবারের সন্তান মাহফুজা। বেশি একটা লেখা পড়া করে উঠতে পারেনি মাহফুজা। মাহফুজা ৪ বোনের মধ্যে সবার বড়।

একটি ভাই রয়েছে সেই পাগলী মাহফুজার। সংসারের অভাবের তারনায় মাহফুজাসহ তার পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় পাড়ি জমায় মাহফুজার পিতা শাহজাহান মুন্সী। বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের চরডিগ্রী গ্রামের শাহজাহানের বড় মেয়ে মাহফুজা।

পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঢাকার মিরপুর এলাকায় পরিবারের সকলকে নিয়ে বসবাস করতেন মাহফুজার পরিবার। মাহফুজার পিতা শাহজাহান মুন্সী ভ্যান গাড়িতে করে কাচামাল বিক্রি করেন। মা অন্যের বাসায় করতেন ঝিয়ের কাজ। ২০১৭ সালের কোন এক মাসে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় মাহফুজার।

বিয়ের পরে স্বামীকে নিয়ে ঢাকায় থাকতেন মাহফুজা। হাতে মেহেদীর রঙ না শুকাতেই যৌতুকের টাকার জন্য শুরু হয় নির্মম নির্যাতন। পরে মানসিক রোগী হয়ে যান মাহফুজা। স্বামীর বাসায় অনেক দিন তাকে শিকলে বেধে রাখা হয়ছিলো।

একদিন রাতে অনেক মারধর করে মাহফুজার স্বামী। জানা গেছে মাহফুজার স্বামীর নাম আনোয়ার হোসেন। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার শিপচর উপজেলার শিপচর গ্রামে।

কিন্তু তার শশুরের নাম মনে আসে তার। তবে আগের অনেকটাই স্বাভাবিক সেই পাগলীখ্যাত মাহফুজা। জানা গেছে চলতি মাসের ১১ তারিখে বরিশালের চরকাউয়ায় যাত্রী ছাউনির পাশে প্রসব বেদনার চিৎকার ভারি করে তুলছিল খেয়াঘাট এলাকা।

এমন একটি জনবহুল জায়গায় চিৎকারের শব্দ শুনে গন্তব্য করে ছুটে গিয়েছিলেন কিছু মহৎ তরুণ ও নারী। ওই রাতে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল ইসলাম পিপিএম। তিনি পাগলীকে দেখতে গিয়ে এক মহিলা পুলিশকে ডিউটি দেন তিনি।

চলতি মাসের ১৪ তারিখে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থেকে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। ওই দিন রাতেই বিষয়টিকে অনুসন্ধান করতে দায়িত্ব দেয়া হয় কোতয়ালী মডেল থানার এসআই আকলিমা বেগমকে।

কোতয়ালী পুলিশের এই নারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক এসআই আকলিমা বেগম তার সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে এই ঘটনার উদঘনক করে তিনি। উল্লেখ্য যে ফুটফুটে নিষ্পাপ ছেলে শিশুটি যাত্রী ছাউনিতে শুয়ে মিটিমিটি হাসছে।১১ সেপ্টেম্বর বুধবার সন্ধ্যার পরে তার জন্ম। বরিশাল চরকাউয়াি খেয়াঘাটে যাত্রী ছাউনিতে শিশুটি জন্ম নিয়েছে, তাও মাফুজা নামে এক পাগলির গর্ভে।

স্থানীয়দের মতে, মাফুজা প্রায় মাস খানেক যাবত ধরে মানসিক অসুস্থ অবস্থায় খেয়াঘাট এলাকায় ঘোরাঘুরি করতেন। প্রসববেদনায় মাফুজার চিৎকার শুনে স্থানীয় কিছু নারী, যুবক এগিয়ে আসলে সেখানেই তার প্রসব হয়, এখন মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ আছেন।

ওখানে উপস্থিত ব্যক্তি জানান, ‘হুট করে এমন একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় উপস্থিত সকলে। প্রথমে সবাই কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়েন। মুহূর্তেই তারা সামলে নিয়ে এদিক-ওদিক ফোন দিয়ে জেনে নেন কী করতে হবে। শিশুটির নাড়ি তখনো কাটা হয়নি। কয়েক নারীকে ডেকে আনলেও কেউ শিশুটির নাড়ি কাটতে রাজি হচ্ছিলেন না। তাদের মধ্যে এক নারী সাহস করে শিশুটির নাড়ি কাটেন।

এদিকে স্থানীয়রা মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর কাছে শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অবশ্য সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে শিশুটির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দত্তক প্রদানের দাবি জানিয়েয়েন তারা।

অপরদিকে পুলিশ সেই বাচ্চাটির নাম রেখে মোঃ হাসান। আরো জানা গেছে চলতি মাসের ১৫ তারিখে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় এসে তার মেয়ে এবং নাতি দেখে যায়। তবে তার মানসিক অবস্থা অনেকটাই খারাব তাই তার কাছে মেয়েটি দেয়া অনিরাপদ। শক্ত অভিভাবক আসলেই তাকে তার পরিবারের কাছে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল ইসলাম পিপিএম।

Please Share This Post in Your Social Media




কারিগরি সহায়তা: AMS IT BD