বিজ্ঞপ্তি:
Welcome To Our Website...
সংবাদ শিরোনাম :
৭০ হাজার ৫’শ শিশুর হাম রুবেলা টিকা অনিশ্চিত, দাবী আদায়ে আমতলীতে হেলথ অ্যাসোসিয়েশনের কর্ম বিরতি বরিশালে সিআইডির ডিআইজিকে ডিসি খাইরুল আলমের ফুলেল শুভেচ্ছা শুভেচ্ছায় ভাসছেন নবগঠিত যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বরিশালে তারুণ্যের ঐকতাণ্যের যুব সদস্যরা করোনার সচেতনতার সাইকেল র‌্যালি বরিশালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুবদিবস উপলক্ষ্যে তারুণ্যের ঐক্যতান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন মঠবাড়িয়ায় গাঁজাসহ আটক ১ কাউখালীতে করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে সচেতনতা মূলক সাইকেল র‌্যালি বরিশালে মাস্ক ব্যবহার না করায় ৫৩ জনকে অর্থদন্ড বরিশালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুবদিবস পালিত বরিশালে স্বাস্থ্যকর্মীদের অনদিষ্টকালের জন্য কর্ম বিরতি
শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ

শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ

আজ শহীদ নূর হোসেন দিবস। ১৯৮৭ সালের এদিনে তৎকালীন স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকার বিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন নূর হোসেন।মৃত্যুর পর নূর হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজধানীর জিরো পয়েন্ট এলাকার নামকরণ করা হয় শহীদ নূর হোসেন স্কয়ার এবং ১০ নভেম্বরকে শহীদ নূর হোসেন দিবস ঘোষণা করা হয়।

গায়ের শার্ট কোমড়ে বাঁধা, পরনে জিন্সপ্যান্ট, পায়ে কেডস, খালি গায়ে বুকে পিঠে লেখা ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’। নূর হোসেনের পুরো শরীরটাই যেন প্রতিবাদি পোস্টার। নূর হোসেনের এ প্রতিবাদ সহ্য করতে পারেনি স্বৈরাচার সরকার। নির্মম বুলেট ছুটে আসে প্রতিবাদি যুবক নূর হোসেনের দিকে। গুলিবিদ্ধ নূর হোসেনকে যখন একটি রিকশায় করে হাসপাতালের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন এক যুবক। গুলিবিদ্ধ নূর হোসেনকে রিকশা থেকে নামিয়ে পুলিশের গাড়িতে তুলে নেয়া হয়। নূর হোসেন যখন মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন তখনও একজন পুলিশ সদস্য পায়ের বুট তার বুকের উপর চেপে ধরে।

স্বৈরাচারী পুলিশ এমন নিষ্ঠুরভাবে সেদিন নূর হোসেনকে হত্যা করে। নূর হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং স্বৈরশাসক এরশাদ সরকারের পতন ঘটে।

নূর হোসেনের পৈতৃক বাড়ি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিযনের ঝাটিবুনিয়া গ্রামে। তিনি ১৯৬১ জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তাঁর পরিবার স্থান পরিবর্তন করে ঢাকার ৭৯/১ বনগ্রাম রোডে আসে। পিতা মুজিবুর রহমান ছিলেন পেশায় অটোরিকশা চালক। তাঁর মায়ের নাম মরিয়ম বিবি।অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর নূর হোসেন পড়াশোনা বন্ধ করে গাড়ির ড্রাইভার হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। নূর হোসেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি ঢাকা জেলা আওয়ামী মটর চালক লীগের বনগ্রাম শাখার প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

নূর হোসেনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর নামে স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতি বছরের ১০ই নভেম্বর বাংলাদেশে নূর হোসেন দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এছাড়া তিনি যে স্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত হন, তাঁর নামানুসারে সেই জিরো পয়েন্টের নামকরণ করা হয়েছে নূর হোসেন চত্বর।

১৯৯৬ সালে এরশাদ, নূর হোসেনের মৃত্যুর জন্য জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তাঁর দল জাতীয় পার্টি এখন ১০ই নভেম্বরকে গণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালন করে। ১০ই নভেম্বর তাঁর মৃত্যুর কিছু সময় পূর্বে তোলা তাঁর গায়ে লেখাযুক্ত আন্দোলনরত অবস্থার ছবিটি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

Please Share This Post in Your Social Media




কারিগরি সহায়তা: AMS IT BD